কক

নগরীতে দুই দশক ধরে চায়ের দোকানের আড়ালে ইয়াবা সাম্রাজ্য!

 


বরিশাল নগরীর লুৎফর রহমান সড়কে গত প্রায় দুই দশক ধরে একই পরিবারের হাতে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী মাদক সাম্রাজ্য—এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। বাইরে চায়ের দোকান, ভেতরে ইয়াবার রমরমা কারবার। এলাকাবাসীর ভাষায়, পুরো এলাকা কার্যত এই পরিবারের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে।

অভিযোগের তীর বরিশাল নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের লুৎফর রহমান সড়কের বাসিন্দা আব্দুল ছালাম, তার স্ত্রী রেবা বেগম (ভাবি) এবং তাদের মেয়ে সুমার দিকে। স্থানীয়দের দাবি, বাবা–মা–মেয়ে মিলেই দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে আটক হলেও জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও আগের মতো মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। এতে করে এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—এই পরিবারের বিরুদ্ধে আইন কি আদৌ কার্যকর হচ্ছে?

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন সপ্তাহ আগে আব্দুল ছালামের স্ত্রী রেবা বেগম, যিনি এলাকায় ‘ভাবি’ নামে পরিচিত, একটি মাদক মামলায় জামিনে মুক্ত হন। স্থানীয়দের অভিযোগ, জামিনে বের হয়েই তিনি পুনরায় ইয়াবা কারবারে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।

এছাড়া আব্দুল ছালামের বিরুদ্ধেও রয়েছে একাধিক মাদক মামলা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদক বিক্রির টাকায় তিনি সম্প্রতি লুৎফর রহমান সড়কের পাশেই ষাট লক্ষ টাকার জমি ক্রয় করেছেন, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

এবিষয়ে অনুষন্ধানে গিয়ে জানাযায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে এই পরিবার নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা চালিয়ে গেছে। এবিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন আসছে।

অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান সময়েও কিছু রাজনৈতিক মহলের নীরব প্রশ্রয়ে তাদের মাদক কারবার আগের মতোই অব্যাহত রয়েছে।

এছাড়া স্থানীয়দের দাবি, আব্দুল ছালামের মেয়ে সুমা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ফেরি করে ইয়াবা সরবরাহ করে থাকেন। বয়সে কম হলেও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদক বিক্রিতে সে বেশ দক্ষ বলে দাবি এলাকাবাসীর।

এদিকে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ রয়েছে, সরাসরি মাদক সরবরাহ এড়াতে এই পরিবারটি নগরীর কিছু রিকশাচালককে ব্যবহার করছে। নির্দিষ্ট কয়েকজন রিকশাচালকের মাধ্যমে ইয়াবা সরবরাহ করা হয় বিভিন্ন পাড়া–মহল্লায়। এতে করে মূল হোতারা আড়ালে থেকে যায় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কমে আসে। স্থানীয়দের মতে, এটি একটি পরিকল্পিত ও সংঘবদ্ধ মাদক সরবরাহ কৌশল।

স্থানীয়দের ভাষায়, একাধিকবার আটক হওয়ার পরও আইনের ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে বেরিয়ে এসে আবার ব্যবসা চালু রাখায় এই পরিবারের দাপট দিন দিন বেড়েই চলেছে।
তারা জানান, মাদক কারবারের কারণে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের পথে। নেশায় জড়িয়ে পড়ছে কিশোর ও তরুণরা।

এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, মাদকের বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারভাবে চলমান রয়েছে এবং প্রাপ্ত অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে। ভবিষ্যৎতে ইয়াবার সন্ধান পাওয়া গেলে বা প্রকৃত তথ্য পাওয়া গেলে তাদের আটক করা হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা”

অন্যদিকে এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই লুৎফর রহমান সড়কের একাধিক স্থানে প্রকাশ্যেই মাদক কেনাবেচা চলছে। দিনের আলোতে এমন অবাধ মাদক বাণিজ্য চললেও কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ না থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও জনমনে গভীর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অবিলম্বে অভিযুক্ত পরিবারটিকে স্থায়ীভাবে আইনের আওতায় এনে তাদের সম্পদের উৎস তদন্ত, মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের শনাক্ত এবং পুরো নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

ব্রেকিং নিউজ: গৌরনদী

গৌরনদীতে সাকুরা পরিবহনের ধাক্কায় ভ্যানচালক নিহত; ঘাতক বাস আটক

গৌরনদী প্রতিনিধি: বরিশালের গৌরনদীতে দ্রুতগতির সাকুরা পরিবহনের (Sakura Paribahan) বাসের ধাক্কায় মোঃ মিলন (২২) নামের এক ভ্যানচালক নিহত হয়েছেন। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর ১ টার দিকে উপজেলার ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের হাসঁপিঠা রেস্টুরেন্টের সামনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মোঃ মিলন মাদারিপুরের ডাসার উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের মৃত আঃ রাজ্জাকের ছেলে।

🚔 দুর্ঘটনার বিস্তারিত

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার দুপুর ১ টার দিকে দ্রুতগতির সাকুরা পরিবহনের একটি বাস বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ভ্যানকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ভ্যানচালক মিলন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর ঘাতক বাসটি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ভুরঘাটা ব্রিজের উপর থেকে স্থানীয় জনতার সহযোগিতায় পুলিশ বাসটি আটক করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই দুর্ঘটনার ফলে মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যানজটের সৃষ্টি হয়।

গৌরনদী হাইওয়ে থানার ওসি মোঃ শামীম শেখ জানান: "নিহতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ওই পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
কিউওয়ার্ডসমূহ: গৌরনদী দুর্ঘটনা, সাকুরা পরিবহন দুর্ঘটনা, গৌরনদী নিউজ, বরিশাল সড়ক দুর্ঘটনা, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক সংবাদ, আজকের গৌরনদী খবর।

সর্বশেষ সংবাদ পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ফলো করুন

Facebook: news.barishalsangbad

বরিশাল আবহাওয়া আপডেট: ৯.১° রেকর্ড তাপমাত্রা, হাড়কাঁপানো শীত ও জনজীবন বিপর্যস্ত

বরিশাল আবহাওয়া আপডেট: ৯.১° রেকর্ড তাপমাত্রা, হাড়কাঁপানো শীত ও জনজীবন বিপর্যস্ত

Barishal Weather Update: Latest Cold Wave News in Barisal Division

বরিশাল খবর: সারা দেশের মতো বরিশালে (Barishal) জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) বরিশাল জেলায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তাপমাত্রার পারদ ৩.৩ ডিগ্রি নিচে নেমে স্মরণকালের সর্বনিম্ন ৯.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। বরিশালের আবহাওয়া (Barishal Weather) অফিসের তথ্যমতে, এটি এই মৌসুমের রেকর্ড শীত।

সর্বনিম্ন তাপমাত্রা (Barisal)

৯.১°C

সর্বোচ্চ তাপমাত্রা (Barishal)

২০°C

🏥 শেবাচিম হাসপাতালে ভয়াবহ পরিস্থিতি: ৭ গুণ বেশি রোগী

তীব্র ঠান্ডায় বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (ShebaChaim) হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। হাসপাতাল সূত্রে প্রাপ্ত ডাটা:

শিশু ওয়ার্ড আসন

৪১টি

ভর্তি শিশু রোগী

৩৫০ জন

চিকিৎসক ও নার্সরা এই বিশাল সংখ্যক রোগীকে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। কেবল শিশুরাই নয়, বয়স্করাও ঠান্ডাজনিত নানা সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন।

☁️ আগামী ৫ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস

বরিশাল আবহাওয়া পর্যবেক্ষক মাসুদ রানা রুবেল জানান, মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এর একটি বর্ধিতাংশ বরিশাল উপকূল সংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে। শনিবারের পর তাপমাত্রা আরও হ্রাস পেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

"ঠান্ডায় হাত-পা অবশ হয়ে আসছে। রাস্তায় যাত্রী নেই। এভাবে চললে সংসার চালানো দায় হয়ে পড়বে।" — জাকির হোসেন, অটোরিকশাচালক, কালিবাড়ি রোড, বরিশাল।
Tags: বরিশাল আবহাওয়া, Barisal Temperature, Barishal Today Weather, শেবাচিম নিউজ, আজকের বরিশাল সর্বশেষ সংবাদ, বরিশালে শীত, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বরিশাল।

বরিশালের সব খবরের লাইভ আপডেট পেতে আমাদের সাথে থাকুন:

Facebook: news.barishalsangbad

বরিশাল কাউনিয়া থানার অভিযানে ইয়াবা সহ আটক ৪

 


বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউনিয়া থানার পৃথক অভিযানে ১৪ পিচ ইয়াবাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে একজন মাদক কারবারি কৌশলে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।


শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাতে কাউনিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) (নিঃ) মো. মঞ্জুরুল হাসান ও মো. নাছির উদ্দিনের নেতৃত্বে নগরীর বেলতলা এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।


গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— সাকিব ইব্রাহীম (২৩), মো. আল আমিন ফকির (২৮), মো. হাসান হাজরা (৩০) ও মো. সাইফুল (২০)। এ ঘটনায় পলাতক আসামি হলেন মো. অপু (৩০)।


পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাউনিয়া থানার একটি অভিযানিক দল বেলতলা মাহামুদিয়া মাদ্রাসার সামনে অবস্থিত একটি টিনশেড ঘরে অভিযান চালায়। এ সময় অভিযুক্তরা নিজেদের কাছে থাকা ইয়াবা হস্তান্তরের চেষ্টা করলে হাতেনাতে তাদের আটক করা হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে সাকিব ইব্রাহীমের কাছ থেকে ১০ পিচ এবং মো. আল আমিন ফকিরের কাছ থেকে ৪ পিচ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়—মোট ১৪ পিচ ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে।


এদিকে অভিযানে মাদক কারবারিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও দুইজনকে আটক করা হলেও চক্রের মূল হোতা মো. অপু পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে পালিয়ে যায় বলে জানায় পুলিশ।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই স্থানীয়ভাবে পরিচিত এবং দীর্ঘদিন ধরে পরস্পরের সহযোগিতায় এলাকায় বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা বিক্রি করে আসছিল।


কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য বিশেষ টিম কাজ করছে। তিনি মাদকবিরোধী অভিযানে সাধারণ জনগণকে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

বরিশাল

 

বরিশাল জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী জেলা। এর রয়েছে সমৃদ্ধ ইতিহাস, বৈচিত্র্যময় উপজেলা, আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থান এবং নিজস্ব সংস্কৃতি।

ইতিহাস:

​বরিশালের প্রাচীন নাম ছিল "বাকলা"। মোঘল আমলে এটি "সরকার বাকলা" নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে "বাকেরগঞ্জ" এবং সবশেষে "বরিশাল" নাম ধারণ করে। ধারণা করা হয়, "বরিশাল" নামটি এসেছে "বরি" (ধান) এবং "শাল" (ক্ষেত) শব্দ থেকে, যা এই অঞ্চলের উর্বরতা নির্দেশ করে। ব্রিটিশ শাসনামলে বরিশাল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র ছিল। এখানে অনেক ঐতিহাসিক বিদ্রোহ ও আন্দোলন সংঘটিত হয়েছে, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

উপজেলা:

​বরিশাল জেলায় মোট ১০টি উপজেলা রয়েছে:

​১. বরিশাল সদর

২. আগৈলঝাড়া

৩. বাবুগঞ্জ

৪. গৌরনদী

৫. হিজলা

৬. মেহেন্দিগঞ্জ

৭. মুলাদী

৮. বানারীপাড়া

৯. উজিরপুর

১০. বাকেরগঞ্জ

দর্শনীয় স্থান:

​বরিশালে অসংখ্য দর্শনীয় স্থান রয়েছে, যা পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

  • দুর্গাসাগর দীঘি: বাংলাদেশের বৃহত্তম মানবসৃষ্ট দীঘিগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম, যা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং পাখির অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত। শীতকালে এখানে বিভিন্ন প্রজাতির পরিযায়ী পাখির আগমন ঘটে।
  • গুঠিয়া মসজিদ (বায়তুল আমান জামে মসজিদ): আধুনিক স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত এই মসজিদটি তার সৌন্দর্য ও বিশালতার জন্য বিখ্যাত।
  • কীর্তনখোলা নদী: বরিশাল শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া এই নদীটি শহরের প্রাণকেন্দ্র। নৌকা ভ্রমণ এবং নদীর তীরবর্তী জীবনযাত্রা উপভোগ করার জন্য এটি একটি চমৎকার স্থান।
  • শেরে বাংলা স্মৃতি জাদুঘর: বাংলাদেশের অন্যতম জাতীয় নেতা শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হকের পৈত্রিক বাড়ি, যা এখন জাদুঘরে রূপান্তরিত হয়েছে।
  • লাখুটিয়া জমিদার বাড়ি: প্রাচীন স্থাপত্যের নিদর্শন এই জমিদার বাড়িটি ইতিহাসের সাক্ষী।

সংস্কৃতি:

​বরিশালের সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময়।

  • ভাষা: বরিশালের মানুষের নিজস্ব উপভাষা রয়েছে, যা "বরিশাইল্যা ভাষা" নামে পরিচিত। এটি বাংলা ভাষার একটি স্বতন্ত্র রূপ।
  • খাদ্য: বরিশাল তার ঐতিহ্যবাহী পিঠা-পুলি, শুঁটকি মাছের তরকারি এবং বিভিন্ন ধরনের ভর্তার জন্য বিখ্যাত। এখানকার ইলিশ মাছের খ্যাতি বিশ্বজুড়ে।
  • উৎসব: ঈদ, পূজা, পহেলা বৈশাখ এবং বিভিন্ন লোকজ উৎসব এখানে আনন্দ ও উৎসাহের সাথে পালিত হয়।
  • নৃত্য ও সঙ্গীত: লোকগান, জারি-সারি এবং কীর্তন এখানকার সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।

​বরিশাল জেলা তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক নিদর্শন এবং সমৃদ্ধ সংস্কৃতির জন্য বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল।

বরিশালে পুলিশকে কামড়ে পালানো সেই ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

 



পুলিশের হাত থেকে গ্রেপ্তার এড়াতে পুলিশ সদস্যকে কামড়ে পালিয়ে যাওয়া বিতর্কিত বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুমকে এবার কেন্দ্রীয় ছাত্রদল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে মাসুমকে বহিষ্কার করা হয়েছে।এর আগে একাধিক মামলার আসামি বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুমকে ২১ নভেম্বর গ্রেপ্তার করতে গেলে পুলিশের হাতে কামড়ে তিনি পালিয়ে যান। এ সময় মাসুমের সহযোগীদের হামলায় এসআইসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। পালিয়ে যাওয়ার তিন দিন পর মাসুমকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে প্রেরণ করে পুলিশ। এরপরই শুক্রবার তার বহিষ্কার আদেশ বরিশালে পৌঁছে।

মাসুম গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে ছাত্রদলের নাম ব্যবহার করে একের পর এক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম, মাদক বিক্রি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে।

উল্লেখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে গেলে তিনি পুলিশের হাতে কামড়ে পালিয়ে যান, যা গোটা শহরজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে।

শুধু তাই নয়, ছাত্রদল থেকে মাসুমের বহিষ্কারের খবর শুনে ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ভাটারখাল কলোনিতে বসবাসকারী সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

এছাড়াও মাসুমের বিরুদ্ধে ভাটারখাল এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকার একাধিক বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, মাসুম মাদকসহ তিনটি মামলায় কারাগারে রয়েছেন। এর আগে মামলার আসামি হওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করতে গেলে তিনি পুলিশের হাতে কামড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন।

প্রথমবারের মতো নারী পুলিশ সুপার পেলো বরিশাল

 


প্রথমবারের মতো বরিশালে নারী পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন পেয়েছেন ফারজানা ইসলাম। এর আগে তিনি রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বুধবার (২৬ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. মাহবুবুর রহমানের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ রদবদল করা হয়।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গতবছরের ২১ ডিসেম্বর থেকে রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন ফারজানা ইসলাম। এর আগে ঢাকায় পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।

ফারজানা ইসলাম ২৫তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে ২০০৬ সালে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

চরমোনাইয়ে তিন দিনব্যাপী মাহফিল শুরু: লাখো মুসল্লির ঢল

 


চরমোনাইয়ে তিন দিনব্যাপী মাহফিল শুরু: লাখো মুসল্লির ঢল

বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর তীরে চরমোনাই দরবার শরিফ মাদ্রাসার বিস্তীর্ণ মাঠ আজ বুধবার থেকে লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে মুখর হয়ে উঠেছে। দুপুরে জোহরের নামাজের পর চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের উদ্বোধনী বয়ানের মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী এই ঐতিহাসিক মাহফিলের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।

দুই মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ

মাহফিল উপলক্ষে মঙ্গলবার দুপুর থেকেই বাস, লঞ্চ ও বিভিন্ন যানবাহনে ঢাকাসহ দেশের নানা অঞ্চল থেকে মুসল্লিদের আগমন শুরু হয়। আজ সকালেই মাদ্রাসার মূল মাঠ ও ৩ নম্বর মাঠ উপচে পড়ে। উভয় মাঠ বিশাল শামিয়ানায় আচ্ছাদিত করে মুসল্লিদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, স্ত্রী-শিশুসহ সাধারণ মুসল্লি, ভক্ত ও অনুসারীদের লক্ষাধিক সমাগমে চরমোনাই এলাকায় এক উৎসবমুখর ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

দুনিয়াবিমুখতার তাগিদ চরমোনাই পীরের

উদ্বোধনী বয়ানে চরমোনাই পীর বলেন,
“দুনিয়াবি স্বার্থ নিয়ে এখানে আসার প্রয়োজন নেই। যাঁরা এসেছেন, হৃদয় পরিশুদ্ধির প্রস্তুতি নিন। দুনিয়ার প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণ মানুষকে অন্যায়ের পথে নিয়ে যায়।”

তিনি আরও বলেন, ইসলামি মূল্যবোধের আলোকে ব্যক্তিজীবনসহ রাষ্ট্রীয় কাঠামো গড়ে তোলাই সত্যিকারের মুক্তির পথ।

১৯২৪ সালে সূচনা—দুই মৌসুমে নিয়মিত মাহফিল

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, চরমোনাই দরবার শরিফে আনুষ্ঠানিক মাহফিলের সূচনা হয় ১৯২৪ সালে। প্রতি বছর বাংলা মাস অনুযায়ী অগ্রহায়ণ ও ফাল্গুনে দুটি মাহফিল आयोजित হয়। এর মধ্যে অগ্রহায়ণের মাহফিল তুলনামূলক ছোট এবং ফাল্গুনের মাহফিল বছরজুড়ে সবচেয়ে বৃহৎ আয়োজন হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়।

চলমান মাহফিল শেষ হবে শনিবার সকাল সাড়ে আটটায় আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে। শুক্রবার হওয়ায় শেষ দিনের আগ মুহূর্তে এখানে অনুষ্ঠিত হবে দেশের বৃহত্তম জুমার জামাত।

সাতটি প্রধান বয়ান, দেশজুড়ে আগত ওলামাদের উপস্থিতি

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেলের প্রধান সমন্বয়ক কে এম শরীয়াতুল্লাহ জানান, তিন দিনব্যাপী এই মাহফিলে প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় মোট সাতটি প্রধান বয়ান অনুষ্ঠিত হবে।

  • উদ্বোধনী ও সমাপনী বয়ান করবেন চরমোনাই পীর
  • তিনটি বয়ান করবেন বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম
  • পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন দরবার ও শীর্ষ আলেমরাও বয়ান পেশ করবেন

তিন দিনে তিন ধরনের বড় আয়োজন

মাহফিলের বিশেষ তিন আয়োজন হলো—
প্রথম দিন: বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধি সম্মেলন
দ্বিতীয় দিন: দেশব্যাপী ওলামায়ে কিরামের অংশগ্রহণে ওলামা সম্মেলন
শেষ দিন: দেশজুড়ে আগত ছাত্র-জনতাকে নিয়ে ছাত্র গণজমায়েত

এ ছাড়া ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ ও ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের উদ্যোগে যুবক, শ্রমিক ও পেশাজীবীদের জন্য আলাদা মতবিনিময় সভা হবে।


বরিশাল সংবাদ – বরিশাল

 

বরিশাল সংবাদ:

বরিশাল আজ: সর্বশেষ খবর, ইভেন্ট এবং গুরুত্বপূর্ণ আপডেট

বরিশাল আজ: সর্বশেষ খবর, ইভেন্ট এবং গুরুত্বপূর্ণ আপডেট

বরিশাল, বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর। আজকের খবর অনুযায়ী, শহরে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চলছে।

রাজনৈতিক আপডেট

বরিশাল বিভাগে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সর্বশেষ সংবাদ ও বিশ্লেষণ।

সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইভেন্ট

বরিশালে আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইভেন্ট।

অর্থনীতি ও ব্যবসা

বরিশালের ব্যবসায়িক পরিস্থিতি, নতুন প্রকল্প ও উদ্যোগ।

বরিশাল ছবি

আপডেট রাখার জন্য আমাদের ওয়েবসাইট ফলো করুন এবং সর্বশেষ খবর পান।

র‍্যান্ডম পোস্ট

    সরকারি চাকরিতে থেকে বিএনপির সভাপতি প্রার্থী!


     

    দ্বৈত পরিচয়ে তোলপাড় বরিশাল




    বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়ীয়া ইউনিয়নের লামছড়ী গ্রামের কবির হোসেন মৃধা, যিনি মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার, কিন্তু সরকারি দায়িত্বকে তাচ্ছিল্য করে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদে প্রকাশ্যে প্রার্থী!


    স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন- ডিউটি ঠিকমতো করছেন না, রোগী পরিবহনেও গাফিলতি, তবু মাস শেষে নিয়মিত বেতন তুলে নিচ্ছেন তিনি। সরকারি চাকরিতে থেকেও দলের নেতৃত্ব দখল, দায়িত্ব উপেক্ষা, এ কীর্তি যেন সাধারণ মানুষকে হতবাক করে দিয়েছে।


    বাংলাদেশের সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি, ১৯৭৯ অনুযায়ী- সরকারি কর্মচারী কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবেন না। কোনো দলীয় পদে প্রার্থী হতে পারবেন না। মিছিল, সমাবেশ বা ব্যানার ও প্রচার নিষিদ্ধ।


    তবুও কবির হোসেন মৃধা প্রচারণা চালাচ্ছেন, ব্যানার লাগাচ্ছেন এবং নিজেকে সভাপতির প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছেন।


    আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন- সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা সরাসরি শৃঙ্খলা ভঙ্গ। দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।


    স্থানীয়রা বলছেন, হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন হলে তাকে পাওয়া যায় না, জরুরি রোগী পরিবহণেও গাফিলতি। কিন্তু রাজনৈতিক সভা, প্রচার ও প্রচারণায় তিনি সর্বদা সক্রিয়।


    এক দোকানি বলেন- চাকরিতে দায়িত্ব পালন না করেও মাস শেষে বেতন তোলেন। আর জনগণের জন্য দায়িত্ব পালন না করে রাজনৈতিক শক্তি দেখান। এটা কি গ্রহণযোগ্য?”


    কিছু মাস আগে লামছড়ী বাজারে সরকারি খাল দখল করে দোকান নির্মাণের অভিযোগও ছিল। প্রশাসনের অভিযানে সেই দোকান উচ্ছেদ করলেও, কর্তৃত্বের খোলস পাল্টানোর এমন দৃঢ় সাহস সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় প্রকাশ্য রাজনীতির চরম উদাহরণ।


    সরকারি চাকরি, দায়িত্ব উপেক্ষা, মাসিক বেতন তোলা, প্রকাশ্য রাজনৈতিক নেতৃত্ব সব মিলিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তুঙ্গে। এক নাগরিক বলেন- চাকরিতে সরকারি, কাজে তুচ্ছ, রাজনীতিতে প্রকাশ্য এ কী নিয়ম? প্রশাসন কি দেখছে না?


    নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে এই কর্মকাণ্ড শাস্তিযোগ্য। কিন্তু প্রশাসনের নীরবতা এই চরম অব্যবস্থার জন্য প্রশ্ন তোলে।


    চাকরিরত সরকারি কর্মচারী হয়ে দলের সভাপতির প্রার্থী হওয়া, দায়িত্বে গাফিলতি, মাসিক বেতন তোলা, সব মিলিয়ে কবির হোসেন মৃধার কর্মকাণ্ড নৈতিক ও আইনি বিচারের প্রশ্নে।

    স্থানীয়রা দাবি করছেন- এ ধরনের দ্বৈত পরিচয় ক্ষমতার অপব্যবহার। দ্রুত পদক্ষেপ না হলে আরও বিপত্তি হবে।



     অভিযুক্ত কবির হোসেন মৃধা বলেন, আমি অবসরে আছি। তাই রাজনীতি করতে কোন সমস্যা নাই। কিন্তু তার এই বক্তব্য কতটুকু সত্য তা জানতে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তার সাথে কথা বললে তিনি জানান, কবির হোসেন মৃধা এখনও কর্মরত রয়েছেন। 



    বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ এস এম মনজুর-এ-এলাহী বলেন, এটা খুবই দুঃখজনক। আইনে বলা আছে সরকারি চাকুরিরত অবস্থায় কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী রাজনৈতিক কোন কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত থাকতে পারবে না। আপনাদের এই তথ্য যদি সত্য হয় তাহলে আমি অবশ্যই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব।




    বরিশালে ছাত্রদল কর্মীকে কুপিয়ে জখম

     


    বরিশালের গৌরনদীতে ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জের ধরে সৈকত খান (২৬) নামের এক ছাত্রদল কর্মীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    রোববার (২৩ নভেম্বর) রাতে উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সোমবার সকালে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে  স্থানীয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন।

    স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন সৈকত খান অভিযোগ করে বলেন, আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে কুতুবপুর হাইস্কুল মাঠে ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করি। ওই টুর্নামেন্ট সম্পর্কে বদরপুর গ্রামের আমিনুল ইসলাম, শুভ ফকিরকে কেন জানানো হয়নি- এ নিয়ে রোববার (২৩ নভেম্বর) রাতে তারা বিরোধ সৃষ্টি করে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে আমাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।

    এ ব্যাপারে বক্তব্যের জন্য অভিযুক্ত আমিনুল ইসলামের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

    গৌরনদী থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগের তদন্তসাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    বরিশালে পাঁচ নবজাতকের চিকিৎসায় বিপাকে বাবা-মা


     

    পাঁচ সন্তান জন্মের আনন্দে ভাসা পরিবারে এখন চিকিৎসা ব্যয়ের চিন্তা

    বরিশালের সোহেল-লামিয়া দম্পতির ঘর আলো করে একসঙ্গে জন্ম নিয়েছিল পাঁচ সন্তান। বিয়ের পাঁচ বছর পর একসঙ্গে তিন পুত্র ও দুই কন্যার আগমনে আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছিল পুরো এলাকায়। কিন্তু জন্মের পর দেড় মাস ভালো থাকলেও শীত শুরু হওয়ায় পাঁচ শিশুই ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে ভর্তি রয়েছে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। চিকিৎসা ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে পরিবারটি।

    চলতি বছরের ৬ অক্টোবর বরিশাল ডায়াবেটিক হাসপাতালে কোনো অস্ত্রোপচার ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে জন্ম নেন এই পাঁচ নবজাতক— হাসান, হোসাইন, মোয়াছিন, হাবিবা এবং উমামা। জন্মের পর শারীরিক অবস্থা ভালো থাকলেও শীতের আগমনে একের পর এক সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ২২ নভেম্বর পাঁচজনকেই শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করতে বাধ্য হন অভিভাবকরা।

    ‘চিকিৎসা ব্যয় এখন সবচেয়ে বড় বোঝা’

    শিশুদের নানি শাহনাজ বেগম জানান, মা ও তিনি ছাড়া শিশুদের দেখাশোনার আর কেউ নেই। প্রতিদিন ডায়াপার, দুধ এবং চিকিৎসার ব্যয় বহন করা এখন অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    পাঁচ সন্তানের মা লামিয়া আক্তার বলেন—
    “একটি সন্তান পালন করাই খুব কঠিন; সেখানে আমাদের পাঁচটি সন্তান। প্রতিদিন ১০টির বেশি ডায়াপার লাগে, একটি দুধের কৌটা দুদিনও যায় না। শীতে গরম পোশাকও লাগছে। স্বামীর স্বল্প আয়ে এ ব্যয় সামাল দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই সরকারি এবং হৃদয়বান মানুষের কাছে সাহায্য চাইছি।”

    পিতা মুদি দোকানি সোহেল হাওলাদার জানান, প্রতিদিন সন্তানদের পেছনে কমপক্ষে দুই হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে। অনেকেই আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কেউ পাশে দাঁড়াচ্ছে না বলে আক্ষেপ করেন তিনি।

    সরকারি সহায়তা পেলেও প্রয়োজন স্থায়ী উদ্যোগ

    সন্তান জন্মের পর জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাজ্জাদ পারভেজ একটি গাভী এবং কিছু আর্থিক সহযোগিতা দেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরও তিনি দুধ ও ওষুধের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

    বরিশাল জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক একেএম আখতারুজ্জামান তালুকদার ও সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ পারভেজ পাঁচ শিশুর অসুস্থতার খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

    উপপরিচালক আখতারুজ্জামান বলেন—
    “বিনামূল্যে ওষুধ এবং দুধ সরবরাহ করা হয়েছে। তবে এই পরিবারের জন্য স্থায়ী সহযোগিতা প্রয়োজন। সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে পাঁচ শিশুর সুস্থ স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করা সম্ভব।”



    বরিশালে ভূমিকম্পে হেলেপড়া ভবন নিয়ে আতঙ্ক

     


    বরিশালে ভূমিকম্পে একটি নতুন ভবনের উপর ১৪ বছরের পুরাতন আরেকটি সাড়ে চারতলা ভবন হেলে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

    শুক্রবার সকালের ভূমিকম্পে নগরীর বেলতলা এলাকার মাহামুদিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই স্থানীয়রা চরম মৃত্যুঝুঁকিতে রয়েছেন।

    এদিকে তদন্তে আইন অমান্য করে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে- তা প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) স্থপতি সাইদুর রহমান লুসান।

    স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ১৪ বছর আগে বিসিসি থেকে চারতলা ভবনের অনুমতি নিয়ে মাহামুদিয়া মাদ্রাসার পাশে সাড়ে ৪ তলা ভবন নির্মাণ করেন আব্দুল মোতালেব হাওলাদার। এই ভবনের পাশে এক বছর আগে প্লান অনুযায়ী চারতলা ভবন নির্মাণ করেন জাহির হাওলাদার। দুটি ভবনেই মালিক এবং ভাড়াটিয়ারা বসবাস করে আসছিলেন।

    প্রতিবেশী মো. দুলাল বলেন, একটি ভবন আরেকটির ওপর হেলে পড়ে আছে। এতে এলাকার বাসিন্দাদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

    প্রতিবেশী হারিছুর রহমান স্বপন এবং সাইফুল ইসলাম প্রায় একই সুরে বলেন, যে স্থানে ভবন দুটি নির্মাণ করা হয়েছে সেখানে আগে ডোবা ছিল। সেখানে স্থানীয়রা ময়লা আবর্জনা ফেলত। একটি ভবন আরেকটির উপর হেলে পড়ে থাকায় মৃত্যুঝুঁকিতে আছেন বলে জানান তারা। ভবন নির্মাণে অনিয়ম করা হয়েছে। দুই ভবনের মধ্যে আড়াই ফুট জায়গা রাখার আইন থাকলেও তা অমান্য করা হয়েছে।

    চারতলা নতুন ভবনের মালিক জহির হাওলাদারের ছেলে ফাকের হাওলাদার বলেন, এক বছর আগে আমাদের ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। পাশের ভবনটি পুরাতন হওয়ায় আমাদের ভবনের উপর সেটি হেলে পড়েছে। এতে আমরাসহ স্থানীয়রা চরম ঝুঁকিতে রয়েছি। দ্রুত হেলে পড়া ভবন অপসারণের দাবি জানান তিনি।

    অপরদিকে হেলেপড়া পুরাতন ভবনের মালিক আব্দুল মোতালেব হাওলাদার বলেন, সকালে বাসা থেকে বের হয়ে দেখি আমার ভবনের ওপর নতুন নির্মাণ করা চারতলা ভবনটি হেলে পড়েছে। হতে পারে গত ২১ নভেম্বর সকালে ভূমিকম্পের সময় ভবনটি হেলে পড়েছে। বিষয়টি বিসিসিকে জানানো হয়েছে, তারা ব্যবস্থা নেবেন।

    ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড না মানা এবং প্ল্যান বহির্ভূতভাবে সাড়ে চারতলা ভবন নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

    বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) আর্কিটেক্ট (স্থপতি) সাইদুর রহমান লুসান বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে জেনেছি। ভবন দুটি পাশাপাশি হওয়ায় একটি ভবন হেলে পড়েছে, তা তদন্ত ছাড়া বলা যাচ্ছে না। আমরা নিয়মিত কার্যক্রমে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙে দিচ্ছি। তবে মানুষ সচেতন না হলে কোনোভাবেই ভূমিকম্পের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।

    বরিশাল-৫ (সদর) আসনে প্রার্থী হচ্ছেন ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী


    বরিশাল-৫ (সদর) আসনে প্রার্থী হচ্ছেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) নেত্রী ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী। যার আরেকটি পরিচয় টেসলা নেত্রী। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও থ্রি হুইলারের বৈধতা চেয়ে গড়ে ওঠা সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব তিনি। এ কারণে অনেকে তাকে টেসলা নেত্রী হিসাবেই চেনেন। বরিশালের আলোচিত মুখ ডা. মনীষা বাসদের বরিশাল জেলা কমিটির সদস্য সচিব।

    ২০১৮ সালে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে অংশ গ্রহণের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন এই নেত্রী। তবে বরিশালে তার আন্দোলন সংগ্রামের প্রধান ক্ষেত্র ছিল ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা। সে সময় অবৈধ এসব ব্যাটারিচালিত রিকশার পক্ষ নেওয়া নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান ছিল সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ ও বাসদ নেত্রী মনীষার। বিভিন্ন সময়ে থ্রি হুইলার চালকদের আন্দোলন সংগ্রাম ছাড়াও বরিশালের সমসাময়িক বিষয়ে আন্দোলন করে খ্যাতি পাওয়া ডা. মনীষা সদর আসনে প্রার্থী হলে বাম ধারার ভোটার ও টেসলা চালকরা তার পক্ষে থাকবেন বলে মনে করেন সাধারণ মানুষ।

    সংসদ-সদস্য প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে আলাপকালে এই নেত্রী বলেন, ‘আমি ও আমার পরিবার সাধারণ মানুষদের জন্য সবসময় আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছি। সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হলে বরিশালের উন্নয়নের জন্য কাজ করব।’

    এর আগে বরিশাল সদর পাঁচ আসনে সংসদ-সদস্য প্রার্থী ঘোষণা করেন বিএনপির মজিবর রহমান সরোয়ার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি ফয়জুল করিম, জামায়াতে ইসলামীর মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল এবং এনসিপির লিপু। বরিশাল সদর উপজেলার দশটি ইউনিয়ন ও সিটি শহর নিয়ে সদর পাঁচ আসন। আসন্ন জাতীয় সংসদ-সদস্য নির্বাচনে বরিশাল সদর পাঁচ আসনে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৬৭৯ জন ভোটারের বিপরীতে লড়াই করবেন এই পাঁচ প্রার্থী।

     

    শেখ হাসিনার রায়ের আনন্দে মিষ্টি বিতরণ— বরিশালে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে প্রাণ গেল ছাত্রদল কর্মীর


     


    শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়ের আনন্দে মিষ্টি বিতরণ, কিন্তু শেষ হলো সংঘর্ষে এক মৃত্যুর মধ্য দিয়ে

    বরিশালের বাবুগঞ্জে শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে মিষ্টি বিতরণ অনুষ্ঠানে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে রবিউল ইসলাম (২৫) নামে এক ছাত্রদল কর্মী নিহত হয়েছেন। সোমবার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় জাহাঙ্গীর নগর (আগরপুর) ইউনিয়নের জাহাঙ্গীর নগর গ্রামে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

    নিহত রবিউল ইসলাম স্থানীয় জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তাঁর মরদেহ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

    সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হন। তাঁদের শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    বাবুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জহিরুল ইসলাম জানান, মিষ্টি বিতরণে কারা দাওয়াত পেয়েছে এবং কারা বাদ পড়েছে—এ নিয়ে পূর্বের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে রবিউলের মৃত্যু এবং আরও কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তদন্ত চলছে বলে তিনি জানান।


    বরিশালে স্ত্রীর বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের অভিযোগে স্বামীর


     


    বরিশালের বানারীপাড়ায় দ্বিতীয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ছিনতাই ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে এক ব্যক্তি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। অভিযোগকারী মো. বশির আহমেদ (৪৫) বর্তমানে বানারীপাড়ার রায়েরহাট এলাকায় বসবাস করেন। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার এনায়েতনগর গ্রাম।

    জিডিতে বশির উল্লেখ করেন, তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী লিপি জামান (৩৫)— বানারীপাড়া পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের সলিয়াবাকপুর এলাকার বাসিন্দা। পাঁচ বছর ধরে দাম্পত্য সম্পর্ক চললেও দুই দফা তালাক ও পুনরায় বিবাহের পর তাদের সম্পর্কে জটিলতা দেখা দেয়।

    অভিযোগে বলা হয়, গত ২৩ জুলাই সকালে রায়েরহাট এলাকার ভাড়া বাসায় অবস্থানকালে স্ত্রী লিপি জামান ও তাঁর পূর্বের ঘরের ছেলে আবু আব্দুল্লাহ রিজভি (১৫) বশিরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মারধর করেন। পরে বাড়িওয়ালা, তাঁর মেয়ে ও এক ভাড়াটিয়া সিএনজি চালকসহ কয়েকজন মিলে বশিরকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে বাসা থেকে বের করে দেন।

    ঘটনার সময় তাঁর স্যামসাং এ–২৩ মোবাইল ফোন (মূল্য প্রায় ৪০ হাজার টাকা), মামার মালিকানাধীন গ্লামার ১২৫ সিসি মোটরসাইকেল (নম্বর: ঢাকা মেট্রো–হ–৪০–৪৪০০), মোটরসাইকেলের কাগজপত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে জিডিতে উল্লেখ আছে।

    এবিষয়ে লিপি জামানের মুঠো ফোনে  একাধিক বার ফোন দেয়া হলে তিনি ফোনটি রিসিভ করেন নি।

    বশির আহমেদের দাবি, ঘটনাটি পরিকল্পিত ছিনতাই এবং তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে একটি মানহানিকর ষড়যন্ত্র। ভবিষ্যতের জন্য প্রমাণস্বরূপ বিষয়টি থানায় নথিবদ্ধ করার আবেদন করেন তিনি।

    এ বিষয়ে বানারীপাড়া থানার এএসআই মাসুম বলেন, “বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”



    বরিশালে এক যুগ ধরে এএসআই আজমল ঠাকুর: ঘুষ–বাণিজ্য ও অপরাধীদের সঙ্গে সখ্যতার

     


    বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কর্মরত আছেন সহকারী সাব-ইনস্পেক্টর (এএসআই) আজমল ঠাকুর। সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী একই কর্মস্থলে সর্বোচ্চ তিন বছর থাকার নিয়ম থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে বরিশালের চারটি থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে ঘুরেফিরে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এতে করে স্থানীয়ভাবে অপরাধচক্রের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা এবং অবৈধ সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ দিন দিন বাড়ছে।

    ফরিদপুর জেলার বাসিন্দা এএসআই আজমল ঠাকুর বরিশালে এত দীর্ঘ সময় থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে গড়ে তুলেছেন একাধিক প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সুসম্পর্ক। অভিযোগ রয়েছে—তল্লাশির নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে অর্থ আদায়, সালিশ–বাণিজ্য, পক্ষপাতমূলক ব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ সুবিধা গ্রহণসহ নানা কারসাজিতে জড়িয়ে পড়েছেন তিনি।

    বর্তমানে তিনি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বিমানবন্দর থানায় কর্মরত।

    স্থানীয়দের অভিযোগ

    মাধবপাশা গ্রামের রহিম মাঝি বলেন—
    “পারিবারিক জমি–সংক্রান্ত একটি অভিযোগে থানায় গেলে বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে এএসআই আজমল ঠাকুর আমার কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নেন।”

    কাশিপুর এলাকার সিয়াম হাওলাদার জানান—
    “গত বুধবার রাতে হাসপাতালে একজন স্বজনকে ভর্তি করে বাসায় ফেরার পথে তিনি মোটরসাইকেল আটকের ভয় দেখিয়ে চার হাজার টাকা নেন। এগুলো তার নিত্যদিনের কাজ।”

    স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন একই এলাকায় অবস্থানের সুযোগে তিনি অঢেল অবৈধ সম্পদ গড়েছেন। নিজের ও স্ত্রীর নামে নাকি রয়েছে ব্যাপক পরিমাণ সম্পদ—যা তার আয়–বহির্ভূত।

    অভিযোগ অস্বীকার এএসআই আজমলের

    এক যুগ ধরে বরিশালে থাকার বিষয়টি তিনি স্বীকার করলেও কোনো অনিয়ম বা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করেন।
    তার ভাষায়—
    “কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই আমি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশে কর্মরত রয়েছি। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সবই ভিত্তিহীন।”

    নিয়ম থাকা সত্ত্বেও বদলি হয়নি কেন—প্রশ্ন জনমনে

    সরকারি নীতিমালায় বলা আছে, একই কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি সময় থাকা যাবে না। তবে কী কারণে এক যুগ ধরে বরিশালেই দায়িত্ব পালন করছেন এএসআই আজমল ঠাকুর—সেই প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষ ও পুলিশের মধ্যম সারির কর্মকর্তাদের মাঝেও বিস্তর আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

    বরিশালে মাদকবিরোধী অভিযানে ১৪৭ পিস ইয়াবাসহ নারী গ্রেফতার


    বরিশাল নগরীর কোতোয়ালি মডেল থানাধীন ভাটারখাল বস্তিতে অভিযান চালিয়ে ১৪৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বরিশাল জেলা কার্যালয়। শনিবার (১৫ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টা  দিকে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।


    মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সুত্রে জানাযায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভাটারখাল বস্তির একটি ঘরে অভিযান চালানো হয়।  এসময়  যুথি নামে এক নারীকে  তল্লাশি করে একটি নীল রঙের জিপারযুক্ত পলিথিন প্যাকেট থেকে ১৪৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

    গ্রেফতারকৃত হলেন,কোতোয়ালি মডেল থানাধীন ভাটারখাল এলাকার মো. মুন্না ফরাজীর স্ত্রী মায়া আক্তার যুথি (২২)।

    খোঁজ নিয়ে জানাযায়, আটকৃত মায়া আক্তার যুথি ও তার স্বামী মো. মুন্না ফরাজীর বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।

    মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বরিশাল জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক জানান, উদ্ধারকৃত ইয়াবাসহ আসামীকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে থানায় হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

    দক্ষিণাঞ্চলের নদীবন্দর ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র


    বরিশাল — শহর পরিচিতি, দর্শনীয় স্থান ও ভ্রমণ গাইড | Barisal Sangbad

    বরিশাল — দক্ষিণাঞ্চলের নদীবন্দর ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র

    বরিশাল (Barisal) — বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী নদীবন্দর, ব্যবসা ও সংস্কৃতির মিলনস্থল। কীর্তনখোলা নদীর তীরে অবস্থিত এই শহর দেশের জলপথ যোগাযোগে একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

    ইতিহাস ও ভৌগোলিক পরিচিতি

    বরিশালের ইতিহাস দীর্ঘ ও গৌরবময়। নদীবন্দর হওয়ায় এটি দক্ষিণবাংলার মানুষের বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। শহরটির অবস্থান কীর্তনখোলা নদীর তীরে, যার জলধারা বরিশালকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরিয়ে রেখেছে।

    দর্শনীয় স্থানসমূহ

    • বরিশাল নদীবন্দর: দেশের অন্যতম প্রধান লঞ্চ টার্মিনাল। প্রতিদিন শত শত যাত্রী এখানে যাতায়াত করেন।
    • দুর্গাসাগর দিঘি: শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত বাংলাদেশের বৃহৎ দিঘিগুলোর একটি।
    • বাবুগঞ্জ গুঠিয়ার শ্রী শ্রী ধনঞ্জয় মন্দির: স্থাপত্য ও ইতিহাসে সমৃদ্ধ ধর্মীয় স্থান।
    • লেবুরচর ও কীর্তনখোলা নদীর তীর: বিকেলে নদীর ধারে বসে সূর্যাস্ত উপভোগ করতে পারেন।

    বরিশালের খাবার ও সংস্কৃতি

    স্থানীয় মানুষের অতিথিপরায়ণতা, সুস্বাদু মাছের পদ, আর মিষ্টান্নের জন্য বরিশাল বিখ্যাত। বরিশালের মেলা, নাট্যমঞ্চ ও বইমেলা স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি।

    ভ্রমণ ও পরিবহন ব্যবস্থা

    ঢাকা থেকে লঞ্চ, বাস ও বিমানযোগে সহজেই বরিশালে আসা যায়। বরিশাল বিমানবন্দর থেকে প্রতিদিন ফ্লাইট চলে, এবং লঞ্চে রাত্রিযাত্রা করলে ভ্রমণটি হবে আরও রোমাঞ্চকর।

    SEO নির্দেশিকা (ওয়েবমাস্টারদের জন্য)

    1. ফোকাস কীওয়ার্ড “বরিশাল” শিরোনাম, URL, এবং প্রথম ১০০ শব্দে রাখুন।
    2. লং-টেইল কীওয়ার্ড ব্যবহার করুন যেমন বরিশাল দর্শনীয় স্থান, বরিশাল ভ্রমণ গাইড
    3. প্রতিটি ইমেজে alt="বরিশাল - নদীবন্দর" টাইপ alt ট্যাগ দিন।
    4. ইন্টারনাল লিংক দিন যেমন “বরিশাল সংবাদ”।
    5. Schema ও OG ট্যাগ সঠিকভাবে যোগ হয়েছে কিনা যাচাই করুন।

    প্রস্তাবিত ছবি

    • বরিশাল নদীবন্দর
    • দুর্গাসাগর দিঘি বরিশাল

    উপসংহার

    বরিশাল শুধুমাত্র একটি শহর নয় — এটি বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের হৃদয়। ইতিহাস, নদী ও সংস্কৃতির মিলনে গঠিত এই শহর ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য গন্তব্য। আরও জানতে ভিজিট করুন Barisal Sangbad