নগরীতে দুই দশক ধরে চায়ের দোকানের আড়ালে ইয়াবা সাম্রাজ্য!
বরিশাল নগরীর লুৎফর রহমান সড়কে গত প্রায় দুই দশক ধরে একই পরিবারের হাতে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী মাদক সাম্রাজ্য—এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। বাইরে চায়ের দোকান, ভেতরে ইয়াবার রমরমা কারবার। এলাকাবাসীর ভাষায়, পুরো এলাকা কার্যত এই পরিবারের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে।
অভিযোগের তীর বরিশাল নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের লুৎফর রহমান সড়কের বাসিন্দা আব্দুল ছালাম, তার স্ত্রী রেবা বেগম (ভাবি) এবং তাদের মেয়ে সুমার দিকে। স্থানীয়দের দাবি, বাবা–মা–মেয়ে মিলেই দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে আটক হলেও জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও আগের মতো মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। এতে করে এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—এই পরিবারের বিরুদ্ধে আইন কি আদৌ কার্যকর হচ্ছে?
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন সপ্তাহ আগে আব্দুল ছালামের স্ত্রী রেবা বেগম, যিনি এলাকায় ‘ভাবি’ নামে পরিচিত, একটি মাদক মামলায় জামিনে মুক্ত হন। স্থানীয়দের অভিযোগ, জামিনে বের হয়েই তিনি পুনরায় ইয়াবা কারবারে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।
এছাড়া আব্দুল ছালামের বিরুদ্ধেও রয়েছে একাধিক মাদক মামলা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদক বিক্রির টাকায় তিনি সম্প্রতি লুৎফর রহমান সড়কের পাশেই ষাট লক্ষ টাকার জমি ক্রয় করেছেন, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
এবিষয়ে অনুষন্ধানে গিয়ে জানাযায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে এই পরিবার নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা চালিয়ে গেছে। এবিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন আসছে।
অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান সময়েও কিছু রাজনৈতিক মহলের নীরব প্রশ্রয়ে তাদের মাদক কারবার আগের মতোই অব্যাহত রয়েছে।
এছাড়া স্থানীয়দের দাবি, আব্দুল ছালামের মেয়ে সুমা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ফেরি করে ইয়াবা সরবরাহ করে থাকেন। বয়সে কম হলেও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদক বিক্রিতে সে বেশ দক্ষ বলে দাবি এলাকাবাসীর।
এদিকে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ রয়েছে, সরাসরি মাদক সরবরাহ এড়াতে এই পরিবারটি নগরীর কিছু রিকশাচালককে ব্যবহার করছে। নির্দিষ্ট কয়েকজন রিকশাচালকের মাধ্যমে ইয়াবা সরবরাহ করা হয় বিভিন্ন পাড়া–মহল্লায়। এতে করে মূল হোতারা আড়ালে থেকে যায় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কমে আসে। স্থানীয়দের মতে, এটি একটি পরিকল্পিত ও সংঘবদ্ধ মাদক সরবরাহ কৌশল।
স্থানীয়দের ভাষায়, একাধিকবার আটক হওয়ার পরও আইনের ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে বেরিয়ে এসে আবার ব্যবসা চালু রাখায় এই পরিবারের দাপট দিন দিন বেড়েই চলেছে।
তারা জানান, মাদক কারবারের কারণে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের পথে। নেশায় জড়িয়ে পড়ছে কিশোর ও তরুণরা।
এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, মাদকের বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারভাবে চলমান রয়েছে এবং প্রাপ্ত অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে। ভবিষ্যৎতে ইয়াবার সন্ধান পাওয়া গেলে বা প্রকৃত তথ্য পাওয়া গেলে তাদের আটক করা হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা”
অন্যদিকে এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই লুৎফর রহমান সড়কের একাধিক স্থানে প্রকাশ্যেই মাদক কেনাবেচা চলছে। দিনের আলোতে এমন অবাধ মাদক বাণিজ্য চললেও কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ না থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও জনমনে গভীর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অবিলম্বে অভিযুক্ত পরিবারটিকে স্থায়ীভাবে আইনের আওতায় এনে তাদের সম্পদের উৎস তদন্ত, মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের শনাক্ত এবং পুরো নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

Comments
Post a Comment