কক

বরিশালে এক যুগ ধরে এএসআই আজমল ঠাকুর: ঘুষ–বাণিজ্য ও অপরাধীদের সঙ্গে সখ্যতার

 


বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কর্মরত আছেন সহকারী সাব-ইনস্পেক্টর (এএসআই) আজমল ঠাকুর। সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী একই কর্মস্থলে সর্বোচ্চ তিন বছর থাকার নিয়ম থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে বরিশালের চারটি থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে ঘুরেফিরে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এতে করে স্থানীয়ভাবে অপরাধচক্রের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা এবং অবৈধ সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ দিন দিন বাড়ছে।

ফরিদপুর জেলার বাসিন্দা এএসআই আজমল ঠাকুর বরিশালে এত দীর্ঘ সময় থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে গড়ে তুলেছেন একাধিক প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সুসম্পর্ক। অভিযোগ রয়েছে—তল্লাশির নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে অর্থ আদায়, সালিশ–বাণিজ্য, পক্ষপাতমূলক ব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ সুবিধা গ্রহণসহ নানা কারসাজিতে জড়িয়ে পড়েছেন তিনি।

বর্তমানে তিনি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বিমানবন্দর থানায় কর্মরত।

স্থানীয়দের অভিযোগ

মাধবপাশা গ্রামের রহিম মাঝি বলেন—
“পারিবারিক জমি–সংক্রান্ত একটি অভিযোগে থানায় গেলে বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে এএসআই আজমল ঠাকুর আমার কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নেন।”

কাশিপুর এলাকার সিয়াম হাওলাদার জানান—
“গত বুধবার রাতে হাসপাতালে একজন স্বজনকে ভর্তি করে বাসায় ফেরার পথে তিনি মোটরসাইকেল আটকের ভয় দেখিয়ে চার হাজার টাকা নেন। এগুলো তার নিত্যদিনের কাজ।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন একই এলাকায় অবস্থানের সুযোগে তিনি অঢেল অবৈধ সম্পদ গড়েছেন। নিজের ও স্ত্রীর নামে নাকি রয়েছে ব্যাপক পরিমাণ সম্পদ—যা তার আয়–বহির্ভূত।

অভিযোগ অস্বীকার এএসআই আজমলের

এক যুগ ধরে বরিশালে থাকার বিষয়টি তিনি স্বীকার করলেও কোনো অনিয়ম বা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করেন।
তার ভাষায়—
“কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই আমি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশে কর্মরত রয়েছি। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সবই ভিত্তিহীন।”

নিয়ম থাকা সত্ত্বেও বদলি হয়নি কেন—প্রশ্ন জনমনে

সরকারি নীতিমালায় বলা আছে, একই কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি সময় থাকা যাবে না। তবে কী কারণে এক যুগ ধরে বরিশালেই দায়িত্ব পালন করছেন এএসআই আজমল ঠাকুর—সেই প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষ ও পুলিশের মধ্যম সারির কর্মকর্তাদের মাঝেও বিস্তর আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

Comments