কক

নগরীতে দুই দশক ধরে চায়ের দোকানের আড়ালে ইয়াবা সাম্রাজ্য!

 


বরিশাল নগরীর লুৎফর রহমান সড়কে গত প্রায় দুই দশক ধরে একই পরিবারের হাতে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী মাদক সাম্রাজ্য—এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। বাইরে চায়ের দোকান, ভেতরে ইয়াবার রমরমা কারবার। এলাকাবাসীর ভাষায়, পুরো এলাকা কার্যত এই পরিবারের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে।

অভিযোগের তীর বরিশাল নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের লুৎফর রহমান সড়কের বাসিন্দা আব্দুল ছালাম, তার স্ত্রী রেবা বেগম (ভাবি) এবং তাদের মেয়ে সুমার দিকে। স্থানীয়দের দাবি, বাবা–মা–মেয়ে মিলেই দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে আটক হলেও জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও আগের মতো মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। এতে করে এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—এই পরিবারের বিরুদ্ধে আইন কি আদৌ কার্যকর হচ্ছে?

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন সপ্তাহ আগে আব্দুল ছালামের স্ত্রী রেবা বেগম, যিনি এলাকায় ‘ভাবি’ নামে পরিচিত, একটি মাদক মামলায় জামিনে মুক্ত হন। স্থানীয়দের অভিযোগ, জামিনে বের হয়েই তিনি পুনরায় ইয়াবা কারবারে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।

এছাড়া আব্দুল ছালামের বিরুদ্ধেও রয়েছে একাধিক মাদক মামলা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদক বিক্রির টাকায় তিনি সম্প্রতি লুৎফর রহমান সড়কের পাশেই ষাট লক্ষ টাকার জমি ক্রয় করেছেন, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

এবিষয়ে অনুষন্ধানে গিয়ে জানাযায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে এই পরিবার নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা চালিয়ে গেছে। এবিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন আসছে।

অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান সময়েও কিছু রাজনৈতিক মহলের নীরব প্রশ্রয়ে তাদের মাদক কারবার আগের মতোই অব্যাহত রয়েছে।

এছাড়া স্থানীয়দের দাবি, আব্দুল ছালামের মেয়ে সুমা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ফেরি করে ইয়াবা সরবরাহ করে থাকেন। বয়সে কম হলেও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদক বিক্রিতে সে বেশ দক্ষ বলে দাবি এলাকাবাসীর।

এদিকে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ রয়েছে, সরাসরি মাদক সরবরাহ এড়াতে এই পরিবারটি নগরীর কিছু রিকশাচালককে ব্যবহার করছে। নির্দিষ্ট কয়েকজন রিকশাচালকের মাধ্যমে ইয়াবা সরবরাহ করা হয় বিভিন্ন পাড়া–মহল্লায়। এতে করে মূল হোতারা আড়ালে থেকে যায় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কমে আসে। স্থানীয়দের মতে, এটি একটি পরিকল্পিত ও সংঘবদ্ধ মাদক সরবরাহ কৌশল।

স্থানীয়দের ভাষায়, একাধিকবার আটক হওয়ার পরও আইনের ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে বেরিয়ে এসে আবার ব্যবসা চালু রাখায় এই পরিবারের দাপট দিন দিন বেড়েই চলেছে।
তারা জানান, মাদক কারবারের কারণে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের পথে। নেশায় জড়িয়ে পড়ছে কিশোর ও তরুণরা।

এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, মাদকের বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারভাবে চলমান রয়েছে এবং প্রাপ্ত অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে। ভবিষ্যৎতে ইয়াবার সন্ধান পাওয়া গেলে বা প্রকৃত তথ্য পাওয়া গেলে তাদের আটক করা হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা”

অন্যদিকে এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই লুৎফর রহমান সড়কের একাধিক স্থানে প্রকাশ্যেই মাদক কেনাবেচা চলছে। দিনের আলোতে এমন অবাধ মাদক বাণিজ্য চললেও কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ না থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও জনমনে গভীর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অবিলম্বে অভিযুক্ত পরিবারটিকে স্থায়ীভাবে আইনের আওতায় এনে তাদের সম্পদের উৎস তদন্ত, মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের শনাক্ত এবং পুরো নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

ব্রেকিং নিউজ: গৌরনদী

গৌরনদীতে সাকুরা পরিবহনের ধাক্কায় ভ্যানচালক নিহত; ঘাতক বাস আটক

গৌরনদী প্রতিনিধি: বরিশালের গৌরনদীতে দ্রুতগতির সাকুরা পরিবহনের (Sakura Paribahan) বাসের ধাক্কায় মোঃ মিলন (২২) নামের এক ভ্যানচালক নিহত হয়েছেন। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর ১ টার দিকে উপজেলার ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের হাসঁপিঠা রেস্টুরেন্টের সামনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মোঃ মিলন মাদারিপুরের ডাসার উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের মৃত আঃ রাজ্জাকের ছেলে।

🚔 দুর্ঘটনার বিস্তারিত

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার দুপুর ১ টার দিকে দ্রুতগতির সাকুরা পরিবহনের একটি বাস বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ভ্যানকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ভ্যানচালক মিলন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর ঘাতক বাসটি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ভুরঘাটা ব্রিজের উপর থেকে স্থানীয় জনতার সহযোগিতায় পুলিশ বাসটি আটক করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই দুর্ঘটনার ফলে মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যানজটের সৃষ্টি হয়।

গৌরনদী হাইওয়ে থানার ওসি মোঃ শামীম শেখ জানান: "নিহতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ওই পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
কিউওয়ার্ডসমূহ: গৌরনদী দুর্ঘটনা, সাকুরা পরিবহন দুর্ঘটনা, গৌরনদী নিউজ, বরিশাল সড়ক দুর্ঘটনা, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক সংবাদ, আজকের গৌরনদী খবর।

সর্বশেষ সংবাদ পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ফলো করুন

Facebook: news.barishalsangbad

বরিশাল আবহাওয়া আপডেট: ৯.১° রেকর্ড তাপমাত্রা, হাড়কাঁপানো শীত ও জনজীবন বিপর্যস্ত

বরিশাল আবহাওয়া আপডেট: ৯.১° রেকর্ড তাপমাত্রা, হাড়কাঁপানো শীত ও জনজীবন বিপর্যস্ত

Barishal Weather Update: Latest Cold Wave News in Barisal Division

বরিশাল খবর: সারা দেশের মতো বরিশালে (Barishal) জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) বরিশাল জেলায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তাপমাত্রার পারদ ৩.৩ ডিগ্রি নিচে নেমে স্মরণকালের সর্বনিম্ন ৯.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। বরিশালের আবহাওয়া (Barishal Weather) অফিসের তথ্যমতে, এটি এই মৌসুমের রেকর্ড শীত।

সর্বনিম্ন তাপমাত্রা (Barisal)

৯.১°C

সর্বোচ্চ তাপমাত্রা (Barishal)

২০°C

🏥 শেবাচিম হাসপাতালে ভয়াবহ পরিস্থিতি: ৭ গুণ বেশি রোগী

তীব্র ঠান্ডায় বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (ShebaChaim) হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। হাসপাতাল সূত্রে প্রাপ্ত ডাটা:

শিশু ওয়ার্ড আসন

৪১টি

ভর্তি শিশু রোগী

৩৫০ জন

চিকিৎসক ও নার্সরা এই বিশাল সংখ্যক রোগীকে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। কেবল শিশুরাই নয়, বয়স্করাও ঠান্ডাজনিত নানা সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন।

☁️ আগামী ৫ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস

বরিশাল আবহাওয়া পর্যবেক্ষক মাসুদ রানা রুবেল জানান, মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এর একটি বর্ধিতাংশ বরিশাল উপকূল সংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে। শনিবারের পর তাপমাত্রা আরও হ্রাস পেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

"ঠান্ডায় হাত-পা অবশ হয়ে আসছে। রাস্তায় যাত্রী নেই। এভাবে চললে সংসার চালানো দায় হয়ে পড়বে।" — জাকির হোসেন, অটোরিকশাচালক, কালিবাড়ি রোড, বরিশাল।
Tags: বরিশাল আবহাওয়া, Barisal Temperature, Barishal Today Weather, শেবাচিম নিউজ, আজকের বরিশাল সর্বশেষ সংবাদ, বরিশালে শীত, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বরিশাল।

বরিশালের সব খবরের লাইভ আপডেট পেতে আমাদের সাথে থাকুন:

Facebook: news.barishalsangbad

কারাগারে অসুস্থ আ.লীগ নেতা, হাসপাতালে মৃ’ত্যু

 


পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শফিকুল আলম বাবুল খান (৫৫) জেল-হাজতে অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

উল্লেখ্য- গত ১৫ ডিসেম্বর (সোমবার) সন্ধ্যায় কলাপাড়া পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড থেকে অপারেশন ডেভিল হান্টে কলাপাড়া থানার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এরপর বাবুল জেল হাজতে থাকা অবস্থায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্বামীর পাশে সমাহিত খালেদা জিয়া


 

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সাড়ে চুয়াল্লিশ বছর আগে যেখানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে সমাহিত করা হয়েছে, সেই জিয়া উদ্যানে স্বামীর পাশেই শায়িত হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে বিএনপি চেয়ারপারসনকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।।

এর আগে বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নিতে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে জনসমুদ্র তৈরি হয়।

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক খালেদা জিয়ার জানাজা পড়ান।

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজার আগে উপস্থিত মুসল্লিসহ দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তার ছেলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

জানাজার আগে তারেক রহমান বলেন, আমার মা মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া কারো থেকে কোনো ঋণ নিয়ে থাকলে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। আমি সেটি পরিশোধের ব্যবস্থা করব। খালেদা জিয়ার জীবনে কখনো কোনো আচরণে কেউ আঘাত পেয়ে থাকলে তাকে ক্ষমা করে দেওয়ার অনুরোধ জানান তারেক রহমান।

জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ও সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের পাশাপাশি অংশগ্রহণ করেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনীপ্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামসহ দলের সর্বস্তরের নেতারকর্মীদের পাশাপাশি জামায়াত ইসলামীর শফিকুর রহমান, মিয়া গোলাম পরওয়ার, শামীম সাঈদী, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, এনসিপির নাহিদ ইসলাম ও হাসনাত আবদুল্লাহ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মামুনুল হক, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান ও গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুরকে দেখা গেছে। ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের আহমাদুল্লাহও বিএনপি নেত্রীর জানাজায় অংশ নেন।

জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে একটি ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন।

এই মানিক মিয়া অ্যাভেনিউতেই ১৯৮১ সালের ২ জুন খালেদা জিয়ার স্বামী তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জানাজা হয়েছিল। পরে তাকে সমাহিত করা হয় চন্দ্রিমা উদ্যানে, যার বর্তমান নাম জিয়া উদ্যান।

১৯৬০ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিয়ে হয় খালেদা জিয়ার।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমান ছিলেন ১ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার এবং জেড ফোর্সের অধিনায়ক। মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকার জন্য স্বাধীনতার পর তাকে বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত করা হয়। পরে নানা ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে তিনি ক্ষমার শীর্ষে পৌঁছান।

জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপির হাল ধরেন তার স্ত্রী খালেদা জিয়া, তখন তিনি নিতান্তই একজন গৃহবধূ। তিনি ১৯৮৪ সালের অগাস্টে দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন, আমৃত্যু তিনি সে দায়িত্বে ছিলেন।

১৯৮৩ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সাতদলীয় জোট গঠন করে এরশাদবিরোধী আন্দোলন শুরু করে। সেই আন্দোলনে এরশাদ সরকারের সঙ্গে কখনো আপস করেননি খালেদা।

অন্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সমঝোতা করলেও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি কোনো সমঝোতায় যায়নি। তাই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তার নাম হয় আপসহীন নেত্রী।

৪০ দিন ধরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়াকে মঙ্গলবার ভোর ৬টায় মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। তার মৃত্যুতে দেশে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক চলছে, বুধবার ঘোষণা করা হয়েছে সাধারণ ছুটি।

বুধবার সকালে এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে খালেদা জিয়ার কফিন নেওয়া হয় গুলশানে তার ছেলে তারেক রহমানের বাড়িতে।

পরে জাতীয় পতাকা শোভিত লাশবাহী গাড়ি বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে সংসদ ভবনের সামনে পৌঁছায়। গাড়িবহরে একটি বাসে করে সেখানে পৌঁছান খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান ও তার পরিবারের সদস্যরা। বাদ জোহর খালেদা জিয়ার জানাজা হওয়ার কথা থাকলেও তার আগেই সংসদ ভবন এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়।

প্রকাশ্যে ধূমপান করলে গুনতে হবে জরিমানা, অধ্যাদেশ জারি

 



পাবলিক প্লেসের আওতা এবং পাবলিক প্লেসে ধূমপানের শাস্তি বাড়িয়ে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছেন রাষ্ট্রপতি। এতে প্রকাশ্যে ধূমপান করার জরিমানা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এ অধ্যাদেশ জারি করা হয়। ২০০৫ সালের ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন সংশোধন করে এ অধ্যাদেশ জারি করা হয়।

এছাড়া অধ্যাদেশে তামাকের প্যাকেজিংয়ে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং। তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটের গায়ে বিদ্যমান ৫০ শতাংশের পরিবর্তে ৭৫ শতাংশ এলাকা জুড়ে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সতর্কবাণী মুদ্রণের বিধান সংযোজন করা হয়েছে।

অধ্যাদেশে পাবলিক প্লেসের সংজ্ঞা ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস, হাসপাতাল, রেস্টুরেন্ট, হোটেল, শপিং মল, পরিবহন টার্মিনাল, পার্ক, মেলা, এমনকি ভবনের বারান্দা, প্রবেশপথ ও আশপাশের উন্মুক্ত স্থানও এর আওতায় পড়বে।

এসব স্থানে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকছে। পাবলিক প্লেসে ধূমপান করার জরিমানা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা করা হয়েছে।

এছাড়া আগের আইনে পাবলিক প্লেসে ধূমপানের জন্য স্থান নির্ধারণের যে বিধান ছিল তা অধ্যাদেশে বাতিল করা হয়েছে।

নতুন অধ্যাদেশে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, সিনেমা, নাটক ও প্রামাণ্যচিত্রে তামাক ও ই-সিগারেট ব্যবহারের দৃশ্য প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিক্রয়স্থলে তামাকজাত দ্রব্যের প্রদর্শনসহ ইন্টারনেট বা অন্য যে কোনো মাধ্যমে তামাকজাত দ্রব্যের সব ধরনের বিজ্ঞাপন, প্রচার ও প্রসার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

পয়েন্ট অব সেলসে তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেট বা মোড়ক প্রদর্শনও নিষিদ্ধ। ক্রেতার কাছে বিক্রির সময় ছাড়া সব পণ্য দৃষ্টির আড়ালে রাখতে হবে। করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) নামে তামাক কোম্পানির নাম, লোগো বা সহায়তা প্রদর্শনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে অধ্যাদেশে।এ বিধান লঙ্ঘনের জরিমানা এক লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা করা হয়েছে।


অধ্যাদেশে সব তামাকজাত পণ্যের প্যাকেটে উভয় পাশে কমপক্ষে ৭৫ শতাংশ জায়গা জুড়ে রঙিন ছবি ও লেখাসহ স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আগের আইনে ৫০ শতাংশ জায়গা জুড়ে সতর্কবার্তা দেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেজিংয়ে উৎপাদনের তারিখ ও কুইটলাইন হেল্প নম্বর উল্লেখ করতে হবে। স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং ছাড়া তামাক বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আইন ভঙ্গের অভিযোগ ও মামলার ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি প্রযোজ্য হবে। প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষ অবৈধ বিজ্ঞাপন সরাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিতে পারবে বলেও আধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

বছরের শুরুতে আল্লাহর রহমত চেয়ে যে দোয়া করবেন

 


বাংলাদেশে ‘থার্টি ফার্স্ট নাইট’ উদযাপনের প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। অথচ ইসলামের দৃষ্টিতে এই রাত বিনোদনের নয়; বরং আত্মসমালোচনা, তওবা ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়।

ফুক্বাহায়ে কেরাম বলছেন, মুসলিমের জন্য ইংরেজি নববর্ষ পালন কোনো কল্যাণকর বিষয় নয়। বিশেষ করে খ্রিষ্টানদের অনুকরণে গড়ে ওঠা নতুন বছর বরণের পদ্ধতি মুসলমানদের সভ্যতা ও সংস্কৃতির অংশ নয়; বরং তা স্পষ্ট অপসংস্কৃতি। ইংরেজি বছরের শুরুতে ‘থার্টি ফার্স্ট নাইট’ পালন করাকে ইসলাম সমর্থন করে না। এ রাতে বর্ষবরণের নামে যেসব অনৈতিক ও উচ্ছৃঙ্খল কর্মকাণ্ডে তরুণ সমাজ জড়িয়ে পড়ে, তা ইসলামের দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ এবং শরিয়তের সীমা লঙ্ঘন।

সুতরাং, বছরের শুরুতে ইমান ও ইবাদতের সঙ্গে এই মুহূর্তকে উদযাপন করা একজন মুসলিমের জন্য শ্রেষ্ঠ উপায়। হাদিসে বর্ণিত দোয়াগুলো পড়া, নিজেকে শয়তানের প্রলোভন থেকে রক্ষা করা, আল্লাহর রহমত কামনা করা—এই সমস্ত কর্মকাণ্ড নতুন বছরকে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও বরকতের মাধ্যমে শুরু করার উপযুক্ত পথ।

নিজের দুই জীবনের ক্ষতি না করে বছরের শুরুতে আল্লাহর কাছে রহমত কামনা করা যেতে পারে। হাদিসে বর্ণিত দোয়া পড়া যেতে পারে। আবদুল্লাহ ইবনে হিশাম বলেন—আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবিরা নতুন বছরের আগমনে কিংবা নতুন মাসের শুরুতে এই দোয়া পড়তে অভ্যস্ত ছিলেন। দোয়াটি হলো—

اللَّهُمَّ أَدْخِلْهُ عَلَيْنَا بِالْأَمْنِ، وَالْإِيمَانِ، وَالسَّلَامَةِ، وَالْإِسْلَامِ، وَرِضْوَانٍ مِنَ الرَّحْمَنِ، وَجَوَار مِنَ الشَّيْطَانِ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আদখিলহু আলাইনা বিল-আমনি, ওয়াল ইমানি, ওয়াস সালামাতি, ওয়াল ইসলামি, ওয়া রিদওয়ানিম মিনার রাহমানি, ওয়া ঝাওয়ারিম মিনাশ শায়ত্বানি।

অর্থ : হে আল্লাহ! আমাদের ইমান ও ইসলামকে নিরাপদ করুন। আমাদের সুরক্ষা দিন। দয়াময় রহমানের কল্যাণ দান করুন। শয়তানের কুমন্ত্রণার মোকাবেলায় আমাদের সাহায্য করুন। (আল-মুজাম আল-আওসাত, হাদিস : ০৬/২২১)

আরেকটি বর্ণনায় কিছুটা ভিন্নতায় এসেছে। সেখানে দোয়ার শেষের দুই অংশ আগে-পরে বর্ণিত হয়েছে। তখন দোয়াটি এভাবে হয়— اللَّهُمَّ أَدْخِلْهُ عَلَيْنَا بِالأَمْنِ ، وَالإِيمَانِ ، وَالسَّلامَةِ ، وَالإِسْلامِ ، وَجَوَار مِنَ الشَّيْطَانِ، وَرِضْوَانٍ مِنَ الرَّحْمَنِ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আদখিলহু আলাইনা বিল-আমনি, ওয়াল ইমানি, ওয়াস সালামাতি, ওয়াল ইসলামি, ওয়া ঝাওয়ারিম মিনাশ শায়ত্বানি, ওয়া রিদওয়ানিম মিনার রাহমানি।

অর্থ : হে আল্লাহ! আমাদের ইমান ও ইসলামকে নিরাপদ করুন। আমাদের সুরক্ষা দিন। শয়তানের কুমন্ত্রণার মোকাবিলায় আমাদের সাহায্য করুন। দয়াময় রহমানের কল্যাণ দান করুন। (মু’জামুস সাহাবাহ : ০৩/৫৪৩; আল-ইসাবাহ : ০৬/৪০৭-৪০৮)